1. himucinemakhor1@gmail.com : Himel Himu : Himel Himu
  2. hridoyahammed2018@gmail.com : hridoyahmmed :
  3. jubayer.jay@gmail.com : Jubayer Ahmed : Jubayer Ahmed
  4. mdridoysamrat2014@gmail.com : samrat :
  5. shahabuddin1234@gmail.com : Suheb Khan : Suheb Khan
  6. admin@sylhetmail24.com : সিলেটমেইল২৪ ডটকম :
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১২:২৯ অপরাহ্ন

হলিউড, বলিউড, সাউথ ইন্ডিয়ান ও ভোজপুরি সিনেমায় অভিনয় করা বাংলাদেশী শিল্পীরা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

নিজেদের দেশের শিল্পীদের যখন বাইরের দেশে গিয়ে ভাল পারফরম্যান্স করতে দেখা যায়, তখন সবারই মনে একটা আলাদা ভাল লাগা কাজ করে। আজকাল তো যৌথ প্রযোজনার কল্যাণে অনেকেই সহজে বাইরের দেশের সিনেমায় তথা পশ্চিমবঙ্গে কাজ করে আসছেন। কিন্তু আমপশ্চিমবঙ্নএমন কয়েকজন গুণী শিল্পী আছেন; যাদের খ্যাতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে ভারত তাদের একক প্রযোজনার সিনেমাতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাস্ট করেছে বা করে আসছে।

যেমন ববিতা ম্যাডামকে সত্যজিৎ রায় অশনি সংকেত (১৯৭৩) এ, অলিভিয়া ম্যাডামকে দেখা গেছে মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে বহ্নিশিখা (১৯৭৬) সিনেমায়, আর হালের জয়া আহসান তো বিসর্জন (২০১৭), রাজকাহিনী (২০১৫), আবর্ত (২০১৩), কন্ঠ (২০১৮) প্রভৃতি সিনেমা দিয়ে ওপার বাংলার দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করেই ফেলেছেন। আবার বলিউডের Gehri Chot (1983) সিনেমায় ববিতা ম্যাডাম ও Shatru (1986) সিনেমায় শাবানা ম্যাডাম অভিনয় করেছেন। কিন্তু সেগুলোও ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছিল।

আজ আমরা এমন কয়েকজন ঢালিউড শিল্পীদের নিয়ে আলোচনা করবো যারা বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনা ছাড়াই বলিউড, হলিউড, ভোজপুরি ও সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় কাজ করেছেন। তবে শুরু করা যাক।

১. কবরী সারোয়ারঃ- বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী সারোয়ারের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত “সুতরাং” সিনেমার মাধ্যমে। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম অভিনেত্রী যিনি বলিউডের একক প্রযোজনার সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

সিনেমাটির নাম হচ্ছে Jai Bangladesh. আই.এস. জোহর পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়। যেখানে তিনি একজন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটির টাইটেলে তার নাম ছিল কবরী চৌধুরী এবং তার সাথে আরও অভিনয় করেছেন দিলীপ দত্ত, অম্বিকা জোহর প্রমুখ।

২. ফেরদৌস আহমেদঃ- চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদের চলচ্চিত্র যাত্রা ১৯৯৭ সালে সালমান শাহের অসমাপ্ত সিনেমা “বুকের ভিতর আগুন” দিয়ে হলেও, তিনি মূলত পরিচিতি লাভ করেন দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনার সিনেমা “হঠাৎ বৃষ্টি (১৯৯৮) এর মাধ্যমে।

২০০১ সালে ইকবাল দুররানি পরিচালিত ক্রাইম থ্রিলার মুভি Mitti এর মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হয়। যেখানে তিনি অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসী ও পুলিশের রোষানলের শিকার হওয়া এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে তার সাথে আরো ছিলেন শ্রাবণী মুখার্জী, আারিফ জাকারিয়া, মুকেশ তিওয়ারি প্রমুখ। ছবিটি ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও ফেরদৌসের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।

৩. শাকিল খানঃ- সালমান শাহ পরবর্তী যে কয়জন চিত্রনায়ক অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে শাকিল খান অন্যতম। ১৯৯৭ সালে “আমার ঘর আমার বেহেশত” সিনেমার মাধ্যমে তার ঢালিউডে অভিষেক হয়। এরপর বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

২০০২ সালে বিজয় শুক্লা পরিচালিত Har Har Mahadev সিনেমার মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হয়। সনতান ধর্মাবলম্বীদের ভক্তিমূলক এই সিনেমায় তিনি জয়দীপ নামের এক ধনী ব্যবসায়ী তথা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিটিতে তার সাথে আরো ছিলেন অর্পিতা সেনগুপ্ত, শালিনী কাপুর প্রমুখ।

৪. রিয়াজঃ- তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা রিয়াজের ঢালিউডে অভিষেক হয় বাংলার নায়ক (১৯৯৫) সিনেমার মাধ্যমে। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি ঢালিউডের সর্বকালের সেরা চিত্রনায়কদের মধ্যে নাম লেখান। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি কাজ করেন মহেশ মঞ্জরেকর পরিচালিত It Was Raining That Night (2005) নামের একটি ইংরেজি সিনেমায়। হলিউড ও বলিউডের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই সিনেমাটিতে তিনি বিজয় কুমার দীক্ষিত ও জাফর খান নামের দুইটি চরিত্রে অভিনয় করেন।

ছবিটিতে তার সাথে আরো ছিলেন সুস্মিতা সেন, রিয়া সেন, মুনমুন সেন প্রমুখ। দুঃখের ব্যাপার ছবিটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত মুক্তির মুখ দেখেনি। এমনকি অনলাইনে এর কোন ক্লিপ তো দূরে থাক, পোস্টারও পাওয়া যায় না।

৫. নিরব হোসেনঃ- মডেলিং এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা নিরব হোসেনের ঢালিউডে অভিষেক হয় ২০০৯ সালে “মন যেখানে হৃদয় সেখানে” এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি ২০১৫ সালে Banglasia 2.0 নামের একটি মালয়েশিয়ান সিনেমায় কাজ করেন।

২০১৭ সালে ফয়সাল সাইফ পরিচালিত হরর সিনেমা Sheitaan এর মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হয়। ছবিটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন কবিতা রাধেশ্যাম, মীরা প্রমুখ। ছবিটি Islamic Excorsist নামে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায় এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সফলতা অর্জন করে।

৬. মিষ্টি জান্নাতঃ- ২০১৪ সালে “লাভ স্টেশন” সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাতের। এরপর চিনি বিবি, তুই আমার প্রভৃতি সিনেমাতেও তাকে দেখা যায়।

২০১৭ সালে সত্যপ্রকাশ সিংহ ও সুবির মন্ডল পরিচালিত ভোজপুরি Rangbaaz Khiladi সিনেমায় তাকে নায়িকার চরিত্রে দেখা যায়। সিনেমাটিতে তার নায়ক ছিলেন রাকেশ যাদব পাপ্পু। মূলত ভোজপুরি সিনেমায় নায়িকাদের নায়কের সাথে রোমান্স করা ছাড়া আর কোনভাবে উপস্থাপন করা হয় না। এই সিনেমাতেও মিষ্টি জান্নাতকে সেভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমাটি মোটামুটি সফলতা পায়।

৭. মেঘলা মুক্তাঃ- ২০১৪ সালে বিতর্কিত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা “আমি শুধু চেয়েছি তোমায়” এর মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় মেঘলা মুক্তা’র। এরপর নবাব ও পাষাণ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। অবশেষে ২০১৯ সালে প্রধান নায়িকা হিসেবে শিবা গণেশ পরিচালিত Sakala Kala Vallabhudu সিনেমার মাধ্যমে তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিষেক হয়।

ছবিটিতে তিনি চৈত্রা নামের এক চঞ্চলা গ্রামীণ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে তার নায়ক ছিলেন তানিশ্ক রেড্ডি। ছবিটি মোটামুটি ব্যবসাসফল হয়।

৮. জাকিয়া বারী মমঃ- ২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০০৭ সালে “দারুচিনি দ্বীপ” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন মম। এরপর তিনি আলতা বানু, ছুঁয়ে দিলে মন, দহন প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেন।

২০১৯ সালে সমীর খানের আপকামিং হরর মুভি Max Ki Gunn এর মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হয়। ছবিটিতে তিনি সিবিআই অফিসার জাকিয়া খান চরিত্রে অভিনয় করছেন। তার সাথে আরো থাকবেন কবিতা রাধেশ্যাম, নিশাত পান্ডে প্রমুখ। খুব শীঘ্রই ছবিটি মুক্তি পাবে।

৯. সিমলাঃ- ১৯৯৯ সালে “ম্যাডাম ফুলি” সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষিক্ত হয়ে সিমলা অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। কিন্তু এরপর নিজেকে তেমনভাবে আর মেলে ধরার সুযোগ পাননি তিনি। ২০১৯ সালে অর্পণ রায় চৌধুরী পরিচালিত Safar সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার।

ছবিটি নির্মিত হচ্ছে প্লাস্টিক সার্জারির জন্য অবৈধভাবে মানুষের চামড়া সংগ্রহের ঘটনা নিয়ে। এই সিনেমায় তার বিপরীতে দেখা যাবে যশ অরোরাকে। খুব শীঘ্রই ছবিটি মুক্তি পাবে।

১০. সাইফ খানঃ- ২০০৯ সালে আবু সুফিয়ানের ‘বন্ধু মায়া লাগাইছে’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সিলেটের ছেলে সাইফ খানের। এরপর এক জনমের কষ্টের প্রেম, পালাবার পথ নেই, কমিশনার প্রভৃতি সিনেমায় তাকে দেখা যায়।

২০১৯ সালে ফয়সাল সাইফের পরিচালনায় ভারত-ভুটানের প্রথম যৌথ প্রযোজনার সিনেমা Rolong- Make The Dead Walk এর মাধ্যমে বলিউডে নাম লেখান তিনি। এই ভৌতিক সিনেমাটিতে তিনি প্রধান নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার সাথে ভারতের কবিতা রাধেশ্যাম ছাড়াও ভারত ও ভুটানের একঝাঁক শিল্পীরা কাজ করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের প্রথম দিকেই ছবিটি মুক্তি পাবে।

অনুগ্রহ করে শেয়ার করুন

আরো পড়ুন
© 2020 All rights reserved by sylhetmail multimedia
Develop By sylhetmail24.com