স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ‘টক-ঝাল-মিষ্টি’

হুদাই মেডিসিন আর ডাক্তার দেখায় বেকুব স্বামী জাতি। কোন আবাল গবেষনা করে পাইছে “স্ত্রীর কথা মেনে চল্লে হৃদয়ের রোগ হবেনা”। তাইলে, এক কাম করেন “নিজের বাপ-মা’রে বৃদ্ধাশ্রমে রাইখা আসেন”, দেখবেন ঘরই তখন বেহেস্হ। কিছু স্ত্রী জাতি এতোটাই হিংসুইটা যে তারা তাদের স্বামীরে দিয়া এমন কামটাও করায়। আবালের ঘরের আবাল এ জাতীয় মেয়েরা।

বিয়ার সময় নেকামি মারাইয়া কতো কান্দে মেয়েরা (থুক্কু, ভুল কইছি এখন আর কান্দে না, এখন বেহাইয়ার মতো ফুটুশুট মারে হক্কলের সামনে)।

বাসর রাতেই মন্ত্রটা পরায় ফালায় মনে হয়। গন্দম ফল খাইয়া স্বামী তো পুরো দুনিয়াটারেই বেহেস্হ মনে করবার লাগে। পারলে বৌয়ের পদধূলি নিয়া আঁচলের তলে ঠুকে। বৌ তো কলকাঠি নারতেই থাকে আর হাসে।

কিছুদিনের মধ্যেই হুকুমজারি হয় “এ বাসায় সব আমার কথা মতো চলবে, বুঝ্ছো”। স্বামী তো অবাক হইয়া তাকায় থাকে। বলে “তুমি কি অতীত বুঝতে পারো জান?”। বৌ বলে “তুমি যে কারে বিয়া করছো সেটা বুঝবা কেমনে, তোমার বাপও তোমার মতোই হাগল ছিলো বৌয়ের। নিশ্চয় তুমি এ কতাটা বহুতবার হুনছো যখন তুমি ছোট্ট আছিলা”। স্বামী হুর হুর কইরা কান্দে আর কয় “আমি আমার বাপের মতন জীবন চাইনা গো জান”।

আরো পড়ুন :   ‘আমাকে খুশি করো, তোমাকে কাজ দেবো’

বৌ হাসে আর বলে “কি করুম, ঘর থ্যাইকাই তো এটা শিখা আইছি, তখন বাপের লেইগা মায়াই লাগতো। বাপরে কইছিলাম, মায়ের মব কথা মানতে হইবো? বাপে কইছিলো : এক গবেষনায় দেখা গেছে স্ত্রীকে খুশি রাখতে পারলে বেহেস্হ নিশ্চিত। আমি তো বেহেস্হের স্বপ্ন দেখি সেই ছোট্ট বেলার থেইকা মা। বেহেস্তে গেলে মন যা চায় তাই পামু। ৭০টা হুর পামু। হেইখানে নাকি সরাবও খাওয়া যাইবো। তাই তো তোর মায়ের মনের মত কইরা চলি। দুনিয়া-আখেরাত সবই মনে হয় আমার বেহেস্ত। তোর মায়ের কথা মত চল্লে খেচর খেচর ঝগড়া হয়না। আমি বুদ্ধি খাটাইয়া চলিরে, বুঝলি মা’?

তাই, বিয়ের সময় মেয়েরা না, পুরুষদেরই কান্না করা দরকার। কি বলেন ভাইয়া জাতি? নাকি তখন বাসর স্বপ্নে বিভোর থাকেন? মনে আছে, আগের যুগে নব্য জামাইদের মুখে রুমাল থাকতো? সেটার মূল কারন ছিলো “লজ্জাতে মুখে রুমাল দিতো, পরেও সেটা কাজে লাগাতো যখন গোপণে কাঁদতো”। ছেলেদের কান্না কেউ দেখেনা, কিন্তু মেয়ের কান্না সবাই দেখে।

আরো পড়ুন :   মিন্নিকে আদালতে নেওয়া হয়েছে

তাবৎ পৃথিবীটাই যেনো মেয়েদের হাতে। এই যে পুরুষরা এতো কস্ট করেন, অর্থ উপার্জন করেন তার কতোটুকু নিজের জন্য খরচ করেন? বৌ’কে নিয়ে শপিংয়ে গেলে মনে মনে তজবি যপেন কয়জনে? বিয়ের পর স্বেচ্ছায় নিজেকে খুশি রাখার জন্য কি কি করেছেন?

মেয়েরা হয়তো আজ আমার লেখা পড়ে চেচামেচি শুরু করবেন। চেচাইয়েন না। স্বামীর মোবাইল নিয়ে চেক মারতে মারতে সন্দেহের বাতিক হওয়া বৌ, স্বামীকে চালানোর জন্য রিমোট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে রাখা বৌ, মাস শেষে বেতনের পুরো টাকাটা সংসার চালানোর নামে ব্যাংকে রাখা বৌ, ওমুকের স্বামী কি দিলো বা তমুকের স্বামী ঈদের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমনে নিয়ে গেছে এসব নিয়ে ঘরকে যারা দোযক করে তাদের মতো বেকুব মেয়েরা নারী জাতির কলঙ্ক।

৮০% পুরুষ-নারী আমার এ লেখার আওতায় পরেনা। ২০% পুরুষ-নারী আমার এ লেখার আওতাভুক্ত।

আমি চারপাশের স্বামী-স্ত্রীর এমন অনেক ঘটনা শুনেছি, দেখেছি। সেই ঘটনাগুলোর আলোকেই এ লেখাটি।

আমি গর্বিত আমার আম্মাকে নিয়ে যিনি শশুড় বাড়ীর মানুষ আর বাবার বাড়ীর মানুষের মধ্যে পার্থক্য করেনা। আমার আব্বা-আম্মার যে কখনো কথা কাটাকাটি হয়নি তা আমি বলবোনা। তবে, ক্ষনিকেই তা ঠিক হয়ে যেতো। এটা সত্যি যে, ঝগড়ার পর সবসময় আব্বাকেই দেখিছি আম্মাকে ডেকে কথা বলতে। আমি কখনোই দেখিনি কেউ কাউকে চাপ সৃষ্টি করছে কিছু নিয়ে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই তারা সিদ্ধান্ত নেয়। জন্মের পর থেকে কখনোই দেখিনি আব্বার সাথে রাগ করে আম্মা তার বাবার বাসায় চলে গেছে।আম্মা আমাকেও বলেছিলো, স্বামীর সাথে ঝগড়া করে কখনোই আমার কাছে চলে আসবানা। যদি আসো তবে আর যেতে পারবানা। ছোটখাটো ঝগড়া সংসারে হবেই। এটাই স্বাভাবিক। বার বার ঝগড়া করে যে মেয়েরা বাবার বাসায় আসে আবার কিছুদিন গেলেই সব ভুলে স্বামীর কাছে চলে যায় তারা ব্যক্তিত্বহীন। তাই, কথাগুলো মনে রাখবা।

আরো পড়ুন :   শাহরুখের সঙ্গে মিথিলা-সৃজিত

কথাগুলো সত্যি আমি মনে রেখেছিলাম। কিন্তু, তারপরও সাজানো সংসার ভাঙ্গতে বাধ্য হয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমার পরিবারও একই সিদ্ধান্ত নেয়। কারনগুলো বলতে ইচ্ছা করছেনা। কিন্তু, আমার আব্বা-আম্মার আফসোস এক জায়গাতেই তারা তো নিজের পছন্দের পাত্রের সাথেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলো তারপরো সব ভাঙ্গতে বাধ্য হয়েছি। তারা নিজেদের দোষারোপ করে। আমি বলি, এটা আমার ভাগ্য।

ডা. জাফরিনা তুলি
শিক্ষক, বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ