সাইবার ক্রাইম নিয়ে নির্মিত যত বাংলাদেশী সিনেমা

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের জীবন যেমন সহজতর হয়েছে, তেমনি আমাদের গোপনীয়তা পড়েছে হুমকির মুখে। তথ্যপ্রযুক্তিরই অপব্যবহার করে কিছু অসাধু জ্ঞানপাপী করে চলছেন একের পর এক অপকর্ম। যাকে আধুনিক ভাষায় সাইবার ক্রাইম বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার ক্রাইম নিয়ে সিনেমা নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে। আমাদের দেশে এর পরিমাণ খুবই সীমিত। আজ সেসকল সিনেমা নিয়েই আমরা আলোচনা করবো। তবে শুরু করা যাক।

১. নজর (২০০৬):- আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য আশ্রয় চায় www.crime.com এর কাছে। এই সাইটটি চালায় ৫ জন সাইবার বিশেষজ্ঞ চৌকস যুবক। যারা অভিযপেয়েই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপরাধীকে শাস্তি দেয়। প্রশাসন সেই ৫ যুবককে পাকড়াও করতে দায়িত্ব দেয় এক সুকৌশলী পুলিশ অফিসারকে। এমনই গল্প নিয়ে যুগল পরিচালক অপূর্ব রানা নির্মাণ করেন দেশের প্রথম সাইবার ক্রাইম মুভি “নজর”। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমিন খান, নদী, প্রিন্স, আরবাজ খান, আসিফ ইকবাল, মিশা সওদাগর প্রমুখ। সিনেমাটি মোটামুটি সফলতা অর্জন করে।

আরো পড়ুন :   হলিউড, বলিউড, সাউথ ইন্ডিয়ান ও ভোজপুরি সিনেমায় অভিনয় করা বাংলাদেশী শিল্পীরা

২. ছিন্ন ভিন্ন (২০০৬):- হঠাৎ করে একদিন মহিলা হোস্টেলের এক ছাত্রীর গোসলের ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। অনুসন্ধান করে জানা যায় এর পেছনে আছে সেই হোস্টেলেরই এক মেয়ে যে কিনা গোপন ক্যামেরায় মেয়েদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তার সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে তুলে দেয়। সেই চক্র সেগুলোকে পর্নো ভিডিও হিসেবে দেশ বিদেশে বিক্রি করে। শুরু হয় সেই চক্রের সাথে ভুক্তভোগীদের সংঘাতে। এমনই গল্প নিয়ে সৈয়দ মাসুম নির্মাণ করেন “ছিন্ন ভিন্ন”। শায়লা, অমিত হাসান, নিশু, প্রিন্স, মিশা সওদাগর প্রমুখ অভিনীত এই সিনেমাটি অশ্লীলতার দোষে দুষ্ট হয়।

৩. চক্কর (২০০৭):- নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মায়ের চিকিৎসার জন্য একটি ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা হ্যাক করে তুলে ফেলে কম্পিউটার এক্সপার্ট যুবক রাজু। এর মধ্যে প্রশাসনের পাশাপাশি কিছু দুষ্ট লোকও খুঁজতে থাকে রাজুকে। এদিকে রাজুর জীবনে প্রেম আসে। যা তাকে আবার হ্যাকিং এর জগতে পা রাখতে বাধ্য করে। এটা কি প্রেম নাকি চক্রান্ত ? এমনই গল্প নিয়ে ফিরোজ আলম নির্মাণ করেন “চক্কর”। ছবিটির গল্প অনেকটা কেন ঘোষ পরিচালিত; কারিনা কাপুর, শাহিদ কাপুর ও ফারদিন খান অভিনীত Fida (2004) হতে নেওয়া। সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত রাজু, শাহারা, আলেকজান্ডার বো, বিজয় খান প্রমুখ। ছবিটি আশানুরূপ সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়।

আরো পড়ুন :   ঢালিউড তারকাদের পর্দার নাম বনাম আসল নাম

৪. মুখোশ মানুষ (২০১৬):- এক প্লেবয়ের সাথে অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এক গৃহবধূ। এক সময়ে সে জানতে পারে তার প্রেমিক তাদের গোপন মুহুর্তের দৃশ্যগুলো গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করে। এমনকি সে অনেক মেয়ের সাথেই এমন কাজ করে পরে সে ভিডিও একটি পর্নোগ্রাফি চক্রের কাছে বিক্রি করে। এমনই গল্প নিয়ে ইয়াসির আরাফাত জুয়েল নির্মাণ করেন “মুখোশ মানুষ”। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন নওশীন, হিল্লোল, কল্যাণ কোরাইয়া প্রমুখ। কর্তৃপক্ষ সিনেমাটিকে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত বলে দাবি করলেও এর চিত্রনাট্য ও ক্লাইম্যাক্স ধার করা হয়েছে হিন্দি Aksar (2006) সিনেমা হতে। বোল্ড কন্টেন্ট ও ট্রেলারের কারনে সিনেমাটি মুক্তির আগে আলোচিত হলেও পরবর্তীতে মুখ থুবড়ে পড়ে।

আরো পড়ুন :   ইমামকে দাঁড় করিয়ে মসজিদের মিম্বারে বসলেন আ.লীগ নেতা

৫. পাসওয়ার্ড (২০১৯):- বিলিয়নার আলাউদ্দিন সরকারের সুইস ব্যাংক একাউন্টের ইউএসবি পাসওয়ার্ড নিয়ে এক নির্দয় মাফিয়া ডনের সাথে সংঘাত হয় রুদ্র নামের এক যুবকের। রুদ্র কি পারবে সেই ডনকে প্রতিহত করে টাকাগুলো বাংলাদেশের রিহ্যাবিলিটেশন ফান্ডে জমা দিয়ে দিতে ? এমনই গল্প নিয়ে মালেক আফসারী নির্মাণ করেন “পাসওয়ার্ড”। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন শাকিব খান, বুবলী, ইমন, মিশা সওদাগর প্রমুখ। প্রথমে মৌলিক গল্পের সিনেমা বলে গলাবাজি করলেও পরে প্রমাণিত হয় ছবিটি The Target (2014) নামের একটি কোরিয়ান সিনেমার নকল। যেটা কিনা আবার Point Blank (2010) নামের একটি ফরাসি সিনেমার রিমেক। তবে সবকিছুর মধ্যেও ছবিটি ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে।