শাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে বগুড়ার কোচিং সেন্টার

ভয়ঙ্কর জালিয়াত চক্রটির কার্যক্রম ফাঁস হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন ধরা পড়েছিলেন জালিয়াত চক্রের দুই সদস্য। এরপর আরো প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও দেখা যাচ্ছে সেই চক্রটির তৎপরতা বন্ধ হয়নি। বগুড়াকেন্দ্রিক চক্রটি এবার আরো একবার ধরা পড়েছে জালিয়াতি করতে গিয়ে।

এই চক্রটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা করে আসছে। তবে ২০১৬ সালের পর এ বছরও তারা ব্যর্থ হয়েছে। ওই সময় বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহকারী চক্রের দুজন ধরা পড়লেও এবার কেন্দ্রের ভেতরে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। অবশ্য এই চক্রের মূলহোতারা অধরাই থেকে গেছে।

জানা গেছে, বগুড়ার ‘গুগল কোচিং সেন্টার’ নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি পরীক্ষায় বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ করে। জালিয়াত চক্রটি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরকে বিশেষ ডিভাইসে রূপান্তর করে এ কাজ করে আসছে।

পুলিশ জানায়, ক্যালকুলেটরে কারিগরি ফলিয়ে সিমকার্ড যুক্ত করে এটিকে মোবাইলের মতো চলতে সক্ষম করে জালিয়াত চক্র। এ চক্রের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ কিংবা বাইরে থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তর সরবরাহের কাজ করে। ভর্তি পরীক্ষায় থাকা শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র পেয়ে ওই বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে এসএমএস (ম্যাসেজ) পাঠিয়ে বাইরে প্রশ্ন পাঠাতে থাকেন। এরপর জালিয়াত চক্রের সদস্য বাইরে থেকে এসএমএসের মাধ্যমে উত্তর পাঠাতে থাকেন কেন্দ্রের ভেতরে।

আরো পড়ুন :   সিলেটে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে ধাক্কাধা‌ক্কি, নারীসহ গু‌লি‌বিদ্ধ ২

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর শাবির ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টাকালে ইশাদ ইমতিয়াজ হৃদয় ও আল আমিন নামের দুজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ। এছাড়া ৬ শিক্ষার্থীকেও আটক করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে সিমকার্ডযুক্ত ১৬টি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর জব্দ করা হয়েছিল।

পরে নগরীর জালালাবাদ থানার তৎকালীন এসআই দেবাংশু পাল বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলায় গুগল কোচিং সেন্টারের সহকারী পরিচালক আবির ওরফে তুহিন ওরফে জিহানকেও আসামি করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, জালিয়াত চক্রের মূলহোতা এই আবির। তবে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, গতকাল শনিবার শাবিতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ‘এ’ ইউনিট এবং দুপুরের পর হয় ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা। ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির চেষ্টাকালে পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তন্মধ্যে চার শিক্ষার্থীই বগুড়ার, অপরজন ময়মনসিংহের।

আরো পড়ুন :   বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগে পদ পেয়েছেন তারা

আটককৃতরা হলেন- বগুড়া সদরের বৃন্দাবনপাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে মাহমুদুল হাসান, একই এলাকার মাকছুদুর রহমানের ছেলে সাদ মোহাম্মদ সায়েল, বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আহসান আলী ও তৌহিদুল ইসলামের ছেলে ইব্রাহীম খলিল জীবন এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জহিরুল ইসলামের ছেলে মোহাইমিনুল ইসলাম খান রিফাত।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা সিলেটভিউকে জানান, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কেন্দ্র থেকে মাহমুদুল হাসান, মইনুদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে সাদ মোহাম্মদ সায়েল, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আহসান আলী ও ইব্রাহীম খলিল জীবন এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মোহাইমিনুল ইসলাম খান রিফাতকে আটক করা হয়।

আরো পড়ুন :   সিলেট থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র আড়াই ঘন্টা

শাবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী জানান, জালিয়াতিতে আটককৃত বগুড়ার এরা একযোগে এসপি ট্রাভেলস নামের বাসযোগে সিলেটে এসেছিল।

এদিকে, বগুড়াকেন্দ্রিক এই জালিয়াত চক্রকে নিয়ে পুলিশও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। এই চক্রের পেছনে কারা কারা আছে, তা সনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।

সিলেট নগর পুলিশের কর্মকর্তা জেদান আল মুসা বলেন, ‘২০১৬ সালে জালিয়াত যে জালিয়াত চক্র ধরা পড়ে, তারা ছিল বগুড়ার। এবারও দেখা যাচ্ছে, বগুড়াকেন্দ্রিক চক্র জালিয়াতির চেষ্টা করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। এবার আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। চক্রের পেছনে কারা আছে, তা বের করতে কাজ করছে পুলিশ।’