1. himucinemakhor1@gmail.com : Himel Himu : Himel Himu
  2. hridoyahammed2018@gmail.com : hridoyahmmed :
  3. jubayer.jay@gmail.com : Jubayer Ahmed : Jubayer Ahmed
  4. mdridoysamrat2014@gmail.com : samrat :
  5. shahabuddin1234@gmail.com : Suheb Khan : Suheb Khan
  6. admin@sylhetmail24.com : সিলেটমেইল২৪ ডটকম :
সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা ১০টি নোংরা সিনেমা

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অধঃপতনের পেছনে যে কয়টি মুখ্য কারণ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অশ্লীলতা বা নোংরা সিনেমা। মূলত ২০০০ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশে ছিল অশ্লীল সিনেমার রমরমা অবস্থা। এই ৬ বছরের নোংরামি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা আগামী ৬০ বছরেও পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। আজ আমরা জানবো দেশের এমন ১০টি সিনেমা সম্পর্কে যেগুলো অশ্লীলতা বা নোংরামির সব সীমা পার করে ফেলেছিল। তার আগে বলে রাখি আমাদের দেশের সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্যগুলো মূলত “কাটপিস” এর মাধ্যমে দেখানো হতো। কাটপিস হচ্ছে সেন্সর বহির্ভূত অতিরিক্ত কিছু যৌন দৃশ্য যেগুলো সিনেমার গান বা রোমান্টিক সিকোয়েন্সের সাথে অবৈধভাবে জুড়ে দেখানো হতো। তাই ইউটিউবে এই ছবিগুলো থাকলেও সেগুলো অশ্লীল দৃশ্য মুক্ত। তবে শুরু করা যাক।


১. ফায়ার (২০০৩):- বাংলাদেশি অশ্লীল সিনেমা নিয়ে আলোচনা করলে যে নামটি সবার আগে আসে সেটা হলো মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত ২০০৩ এর ক্রাইম এ্যাকশন মুভি “ফায়ার”। দুর্বৃত্তদের শেকড় উপড়ে ফেলার জন্য এক মিশনে নায়ক মান্না যান থাইল্যান্ডে। সেখানে তার সাথে পরিচয় হয় বাঙ্গালী মেয়ে পলি’র সাথে। এভাবে রোমান্স, কমেডি ও এ্যাকশনের মধ্য দিয়ে ছবির গল্প এগুতে থাকে। এই সিনেমার মধ্য দিয়ে চিত্রনায়িকা পলি’র ঢালিউডে অভিষেক ঘটে। মান্না ও পলি ছাড়াও ছবিটিতে মিজু আহমেদ, জাম্বু, কাবিলা, অমল বোস প্রমুখ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটির “কেউ বলে চাইনিজ” শিরোনামের একটি গানে নায়িকা পলিকে একটি পাতলা সাদা পোশাকে সুইমিং পুলে গোসল করতে দেখা যায়। যেটা ভিজে যাওয়ার কারণে তার বক্ষ স্পষ্ট দেখা যায়। কথিত আছে থাইল্যান্ডের পাতায়া শহরে নায়িকা পলি’র সম্পূর্ণ ন্যুড একটি গানের শুটিং করা হয়, কিন্তু সেন্সরে আটকে যাবে বলে সেটা পরে ছবি থেকে কর্তন করা হয়।


২. ওরে বাবা (২০০৩):- মন্দের বিপরীতে সত্যের জয়ের টিপিক্যাল থিম ও গল্প নিয়ে কমল সরকার ২০০৩ সালে নির্মাণ করেন এ্যাকশনধর্মী মুভি “ওরে বাবা”। সিনেমাটি পবিত্র ঈদের দিন মুক্তি পায়। সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাপার হচ্ছে সিনেমাটির পোস্টারেও অশ্লীল কাটপিসের দৃশ্যগুলো খোলামেলা ছাপানো ছিল। বলাবাহুল্য পুরো সিনেমা জুড়েই দেখানো হয়েছিল অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য। সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলেকজান্ডার বো, ময়ূরী, মেহেদী, ঝুমকা, শাহীন আলম ও ডিপজল।


৩. জিরো জিরো সেভেন (২০০৪):-
ছবিটির নাম শুনলে হয়তো জেমস বন্ডের বা সেই জাতীয় কোন দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা গল্পের সিনেমা বলে মনে হবে। কিন্তু আদতে ছবিটি ছিল সেই সময়কার টিপিক্যাল এ্যাকশনধর্মী গল্পের একটি বি গ্রেডের সিনেমা। আজাদ খান পরিচালিত এই সিনেমাটিও পবিত্র ঈদের দিন মুক্তি পায়। সিনেমার সহনায়ক সোহেল, যে কিনা সেসময় “পিচ্চি সোহেল বা লুচ্চা সোহেল” নামে পরিচিত ছিলেন; নায়িকা মেঘার সাথে তার বেশকিছু কুরুচিপূর্ণ গানের দৃশ্য আছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, মহানায়িকা শাবানা ও সালমান শাহের মত তারকাদের সাথে কাজ করা চিত্রনায়িকা সোনিয়া এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আবার ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু “পরিচালকের ডিমান্ডের” কারণে তাকেও কিছু আপত্তিকর দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়। সোহেল, মেঘা ও সোনিয়া ছাড়াও এই ছবিতে আরো ছিলেন আলেকজান্ডার বো, নীলা, সাগর, আলীরাজ প্রমুখ।


৪. রুখে দাঁড়াও (২০০৪):-
এক প্রেমী যুগলের প্রেম সংঘাত ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গল্প নিয়ে শাহাদাৎ হোসেন লিটন নির্মাণ করেন রোমান্টিক এ্যাকশন মুভি “রুখে দাঁড়াও”। এই সিনেমার মাধ্যমে চিত্রনায়িকা শাহারার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তার বিপরীতে ছিলেন শাকিব খান। যদিও শাকিব খান সেসময় এখনকার মত চলচ্চিত্রে এত প্রভাবশালী কেউ ছিলেন না। এই দুজন ছাড়াও ছবিটিতে আরো ছিলেন আলেকজান্ডার বো, ময়ূরী, মেহেদী, ঝুমকা, মিশা সওদাগর প্রমুখ। ঐ সময়ে সবচেয়ে রেকর্ড সংখ্যক অশ্লীল দৃশ্য এই ছবিটিতে দেখানো হয়েছিল। তারপরও ছবিটি কিন্তু আশানুরূপ ব্যবসায়িক সফলতা পায়নি।


৫. নারী (২০০৪):-
আগেই বলে রাখি এই সিনেমাটির পোস্টারে নাম লেখা ছিল “নিষিদ্ধ নারী”, যেখানে “নিষিদ্ধ” শব্দটি কাটা দেওয়া আছে। অর্থাৎ ছবির নাম হচ্ছে শুধু “নারী”, নিষিদ্ধ শব্দটির প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণের কারণে শব্দটি লিখে আবার কেটে দেওয়া হয়েছে। তারপরও সাধারণ দর্শক সিনেমাটিকে “নিষিদ্ধ নারী” হিসেবেই জানে। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত এই ছবিটি মূলত তারই আরেক ছবি “ফায়ার” এর নারী সংস্করণ। যেখানে মুনমুন তার স্বামীর খুনীদের শেষ করতে থাইল্যান্ডে যান। এই সিনেমার জন্য বাংলাদেশের প্রথম কোন চিত্রনায়িকা হিসেবে মুনমুন তার মাথা ন্যাড়া করে ছিলেন। ছবির পোস্টারে ট্যাগলাইন ছিল “অশ্লীলতার কোন সংজ্ঞা নেই, নগ্নতাই অশ্লীলতা নয়”। আর কিছু পোস্টারে মুনমুন বাদে বাকি সব নায়িকাদের দেখা গেছে স্বচ্ছ পোশাকে, যাতে তাদের বক্ষ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এই কারণে ছবিটি দেখতে সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় পড়ে। ছবিটিতে আহামরি তেমন অশ্লীল দৃশ্য না থাকলেও পোস্টার ও প্রচারের কারনে ছবিটি সুপারহিট ব্যবসা করে। এই ছবির গানগুলোও ছিল সুন্দর, কিন্তু গানের ফাঁকে ফাঁকে কুরুচিপূর্ণ দৃশ্যের কারণে সেগুলো আর মূল্য পায়নি। মুনমুন ছাড়াও এই ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন আমিন খান, পায়েল, আসিফ, ডলি, শীতল, মিজু আহমেদ প্রমুখ।


৬. বস্তির রাণী সুরিয়া (২০০৪):-
কিশোরী বয়সেই গ্রামের এক লম্পট ছেলের কাছে ধর্ষণের শিকার হয় সুরিয়া (পপি), সাথে সাথে খুন করে তাকে। এরপর নারী নির্যাতনকারীদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয় সে। এমনই গল্প নিয়ে মনতাজুর রহমান আকবর নির্মাণ করেন এ্যাকশনধর্মী মুভি “বস্তির রাণী সুরিয়া”। নাম ভূমিকায় অভিনয় ছাড়াও এই সিনেমার প্রযোজক ছিলেন নায়িকা পপি নিজেও। তাই ছবিটি হিট করানোর জন্য তিনি আশ্রয় নেন অশ্লীলতার মত ঘৃণ্য পন্থার। যা তার ক্যারিয়ারকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে। এই সিনেমার একটি দৃশ্যে ভিলেন গাঙ্গুয়া অচেতন পপিকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই পপির জ্ঞান ফিরে আসে এবং সে গাঙ্গুয়াকে পরাজিত করে। কিন্তু এই দৃশ্যটার কাটপিস ভার্সনে দেখা গেছে অচেতন হয়ে শুয়ে থাকা পপিকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে গাঙ্গুয়া। যদিও সেখানে পপির চেহারা বাদে শরীরের বাকি অংশ দেখানো হয়েছে। আর আমরা যারা সিনেমা নিয়ে থাকি তারা জানি সেই দৃশ্যটি পপির মত শারীরিক আকৃতির কোন মেয়েকে একই পোশাক পরিয়ে দিয়ে ধারণ করা হয়েছে। যাকে সিনেমার ভাষায় বলা হয় বডি ডাবল। কিন্তু সাধারণ দর্শক আজও মনে করে ঐ নোংরা দৃশ্যের মেয়েটি পপি নিজেই ছিল, তাই তার প্রতি দর্শকদের আগ্রহও কমে যায়। পপি ছাড়াও এই ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন শাকিব খান, ডিপজল, মেহেদী, ঝুমকা প্রমুখ।


৭. প্রেমিকা ছিনতাই (২০০৪):-
প্রেমের টানে গরীব ঘরের ছেলে শাহীন আলমের সাথে পালিয়ে যায় ধনীর দুলালী জিনিয়া। তাকে উদ্ধার করতে প্রেমী যুগলের পিছু নেয় রুবেল। এমনই গল্প নিয়ে ফিরোজ খান প্রিন্স নির্মাণ করেন রোড থ্রিলার মুভি “প্রেমিকা ছিনতাই”। ছবিটি রাম গোপাল বার্মা পরিচালিত ২০০২ এর হিন্দি সিনেমা Road এর নকল। যেখানে রুবেল মনোজ বাজপেয়ীর, শাহীন আলম বিবেক অবেরয়ের এবং জিনিয়া অন্তরা মালীর করা চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটির পরতে পরতে ছিল অশ্লীল দৃশ্যের ছড়াছড়ি। যার কারণে রুবেলের মত সিনিয়র অভিনেতাকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এই তিনজন ছাড়াও সিনেমাটিতে শানু ও মিজু আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। উল্লেখ্য যে একই গল্পে দেবাশিষ বিশ্বাস ২০১৭ সালে “চল পালাই” নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করলেও ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।


৮. বাঁচাও (২০০৪):-
সমাজ থেকে সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য জীবন বাজি লাগানো এক সাহসী পুলিশ অফিসারের গল্প নিয়ে জি এম বাহার নির্মাণ করেন সোশ্যাল এ্যাকশন মুভি “বাঁচাও”। অশ্লীল দৃশ্যগুলো বাদ দিলে এটা খুব সুন্দর একটি সিনেমা। কিন্তু তৎকালীন বেশিরভাগ নির্মাতারা ঝুঁকি না নিয়ে ছবি হিট করার টোটকা হিসেবে অশ্লীলতাকে বেছে নিতেন। এই ছবির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এই ছবির নবাগতা নায়িকা মনিকার কার্যক্রম দেখে তাকে পর্নস্টার বলেই মনে হবে। এছাড়া সহনায়ক পিচ্চি সোহেল আর সূচনার যৌন উত্তেজক দৃশ্যগুলো ছিল এক কথায় সফ্টপর্ন। সিনেমাটিতে কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া “চোখে চোখ পড়লেই” শিরোনামের একটি চমৎকার গান রয়েছে। ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়া এই সিনেমাটিতে আরো ছিলেন শাহীন আলম, শানু, মিশা সওদাগর প্রমুখ।


৯. মাঝির ছেলে ব্যারিস্টার (২০০৫):-
ছবির নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এর গল্প গড়ে উঠেছে এক মাঝির ছেলেকে ঘিরে, যে তার কঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এক সময় ব্যারিস্টার হয়ে সমাজের প্রকৃত দুর্বৃত্তদের মুখোশ উন্মোচন করেন। এনায়েত করিম পরিচালিত এই ছবিটি নামের কারনেই মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করে। কিন্তু শটকাট ব্যবসায়িক সফলতার জন্য এর সাথে জুড়ে দেওয়া হয় ভয়াবহ কিছু অশ্লীল দৃশ্য। যার পরিমাণ এতই ছিল যে মূল সিনেমার গল্প পর্যন্ত খেই হারিয়ে ফেলেছিল। ছবিটিতে “সুন্দর একটি ফুল” শিরোনামের চমৎকার একটি গান রয়েছে। যেটা একবার কেউ শুনলে তার মনে জায়গা করে নেবেই। নাম ভূমিকায় আমিন খান ছাড়াও ছবিটিতে আরো ছিলেন শাকিবা, অমিত হাসান, নদী, মিশা সওদাগর প্রমুখ।


১০. নষ্টা মেয়ে (২০০৫):-
সেই অশ্লীল সিনেমার যুগে এই নামের একটি সিনেমা যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মত। এ আর রহমান পরিচালিত এই সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে বিয়ের নামে প্রতারণার শিকার হয়ে পতিতালয়ে বিক্রি হওয়া এক মেয়েকে নিয়ে। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর হলগুলোতে দর্শকদের এমন লম্বা লাইন শুরু হয়যে প্রশাসনও তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকে। টিকেটও বিক্রি হয় চড়া দামে। কিন্তু মূল সিনেমায় নায়িকা শায়লা আর নায়ক প্রিন্সের একটি যৌনদৃশ্য ছাড়া আর তেমন কোন এডাল্ট দৃশ্য ছিল না। যার কারণে দর্শক “প্রতারিত” হয়ে ক্ষিপ্ত বাঘের ন্যায় সিনেমা হল ভাঙচুর করে। পরে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু কাটপিস দেখিয়ে দর্শকদের “ঠান্ডা” করে। শায়লা ও প্রিন্স ছাড়াও এই ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন আন্না, কেয়া, আলীরাজ, মিজু আহমেদ প্রমুখ।

সবশেষে আমরা অশ্লীলতামুক্ত একটি যুগোপযোগী ও সমৃদ্ধ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চাই।

অনুগ্রহ করে শেয়ার করুন

আরো পড়ুন
© 2019-2020, All rights reserved sylhet mail multimedia
Theme Customized By BreakingNews