প্রেম-ভালোবাসা এক ধরনের নেশা

কেউ কেউ ভালোবাসার খোঁজে হয়রান, কেউবা ভালোবাসা হারিয়ে হচ্ছে উন্মাদ। আবার কেউ হয়ত প্রেমে পড়ে  সব কিছু ভুলে গিয়ে ভাবতে বসেছে এটাই জীবন, এতেই নিহিত সকল সুখ! ভালোবাসা এমন এক জিনিস যা পাওয়ার জন্য সবাই ব্যাকুল হয়ে থাকে। কত কবি সাহিত্যিক হাজার হাজার পাতা লিখে ফেলেলেন শুধু এই ভালোবাসাকে উপজীব্য করে।

প্রেম, সে তো বিশ্বময় ছড়িয়ে আছে। পৃথিবীতে খুব কম মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে যাদের জীবনে প্রেম আসেনি। আর এ কারণে জীবনে একবারের মতো হলেও প্রেমে পড়েনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া আসলেই মুশকিল। প্রেমে পড়ার অসাধারণ এই অনুভূতিটা সব মানুষই পেতে চায়।

সায়েন্স বা বিজ্ঞানের মতে ভালোবাসা বা সব ধরনের মানবিক ইমোশন আমাদের মস্তিষ্কের কিছু রিয়াকশনের ফল।ভালোবাসার উপর কত কোটি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সিনেমা বা নাটক তৈরী হয়েছে তার কোন ইয়াত্তা নাই। এসব জায়গায় ভালোবাসাকে সবাই যার যার নিজের মত করে বর্ণনা করেছেন। কিন্ত এই কথাটা সবাই মানতে নারাজ! তারা এই মধুর জিনিসকে ক্লাইমেক্সের বাইরে বের হতে দিবেননা বা দিতে চান না। দেখা যাক চিকিৎসাবিজ্ঞান ভালোবাসা নিয়ে কি বলে-

আরো পড়ুন :   শোভন-রাব্বানীর মধুভর্তি মেয়ে লাগে : পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেত্রী

১) ভালোবাসা এক ধরনের নেশা বা এ্যাডিকশন

ভালোবাসার মানুষটি পাশে থাকলে বা তাকে নিয়ে ভাবলে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এরিয়া (ventral tegmental area)-তে একটা নিউরোট্রান্সমিটার রিলিজ হয় যার নাম ডোপামিন। এটা  মানুষকে ভালোলাগার অনুভূতি (pleasure) দেয়। ডোপামিন লেভেল বেড়ে গেলে তা নিউরোনাল চেইঞ্জ করে এ্যাডিকশন বা আসক্তিতে রুপ দেয়। অনেকটা মরফিন বা প্যাথেডিনের মত। ফলে সত্যিকারের ভালোবাসার কাছ থেকে দূরে থাকলে মানুষ বিরহ-বেদনায় ভুগে, মরফিন বা প্যাথেডিনের উইথড্র্যাল সিনড্রোম-এর মত।

২) ভালোবাসা হলো অবসেসিভ বা আচ্ছন্ন করে রাখে

মানুষ যখন ভালোবাসার মধ্য দিয়ে যেতে থাকে তখন এটা মস্তিষ্কের সেরোটোনিন-এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। সেরোটোনিন এর কাজ হলো এটা অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতাজনিত দুশ্চিন্তার বিরুদ্ধে কাজ করে। এটা কমে গেলে কোন কিছুর উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মানুষ একটা নিদিষ্ট গণ্ডিতে বন্দী হয়ে পড়ে। সে এটা থেকে বের হতে পারেনা এবং বারবার একই জিনিস তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। তাই প্রেমে পড়লে মানুষের মনের গহীনে সব সময় ভালোবাসার মানুষটি এসে হাজির হয়, তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে।

আরো পড়ুন :   স্বামীর বিয়ে ঠেকাতে লন্ডনি বধূর আবেদন

৩) ভালোবাসা বেপরোয়া করে তোলে

আমাদের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশের কাজ হলো বিচার-বিবেচনা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা। মানুষ যখন ভালোবাসায় মত্ত থাকে তখন এই প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের কাজ লোপ পায়। এ কারনে সে সঠিক বিচার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।  ভালোবাসার মানুষের জন্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বা প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে মারামারি করতেও পিছপা হয়না। এর সাথে সাথে এসময় মস্তিষ্কের এ্যামিগডালা অংশের কাজও লোপ পায়। এটা থ্রেট রেসপন্স বা ভয়-ভীতি উপলব্ধি করাতে কাজ করে। ফলে মানুষ কোন থ্রেট বা ভীতি নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়না। তার কাছে ভালোবাসাই যেন সব।

৪) ভালোবাসা থেকেই একান্ত করে পাওয়ার বাসনা

ভালোবাসা ও যৌনতা আলাদা হতে পারে। কিন্তু এরা মস্তিষ্কে একে-অপরের সাথে ওভার ল্যাপ করে থাকে। ভালোবাসা থেকে একান্ত চাওয়া হতে পারে, আবার একান্ত মুহুর্তের পরেও ভালোবাসা হতে পারে। এই দুই অনুভূতি একই সাথে মস্তিষ্কের একই অংশকে উদ্দীপ্ত করে। যেমন যৌনমিলনের সময় মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল পেলিডাম নামক অংশে অনেক বেশি অক্সিটোসিন হরমোন রিলিজ হয়। এটা মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন ও পারস্পরিক অনুরক্তি সৃস্টি করে। ফলে দেখা যায়, পরস্পর অপরিচিত দুজন মানুষের মধ্যে বিয়ের পরে একান্ত মুহুর্তের শেষে বিশেষ অনুরক্তি তৈরী হয়।  আবার মানুষ জীবনের প্রথম ভালোবাসাকে ভুলতে পারেনা। কারন প্রথম ভালোবাসার সময় অনেক বেশি অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয় যা মস্তিষ্কে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটায়। এ কারনে সে মানুষটি হারিয়ে গেলেও তার প্রতি একটা ভালোবাসা সব সময়ই থেকে যায়।

আরো পড়ুন :   আপন ছোট ভাইকে ছাত্রলীগে বড় পদ দিলেন শোভন

৫) প্রেমে পড়লে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়

প্রেমে পড়লে ছেলে-মেয়ে সবারই শরীরের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। যাকে ভালোবেসে ফেলেছেন তাকে দেখলে পেটে ও বুকের ভেতর এক অদ্ভুত চাপ অনুভূত হয়। তার সাথে কথা বলার সময় কিংবা তাকে ফোন করার আগে প্রচণ্ড আবেগের একটি অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এই অনুভূতিকেই ইংরেজিতে বলা হয় ‘বাটারফ্লাইস ইন স্টোমাক’ বা পাকস্থলীতে প্রজাপতি। এই অনুভূতির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, নার্ভাস হয়ে যাওয়ার কারণে শরীর থেকে একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোনের কারণে পাকস্থলীর এই অনুভূতি সৃষ্টি হয়।