পাপলুর নেতৃত্বে সিলেট যুবদল

দীর্ঘ দেড় যুগ পর সিলেট যুবদলের অনুমোদন পাওয়া কমিটিতে চমক দেখিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। অনেক বাঁধা-প্রতিপত্তি অতিক্রম করে তিনি শুক্রবার সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু পাপলুর কাঁধেই দিয়েছেন সিলেট যুবদলের দায়িত্ব।

জানা গেছে, ২০০০ সালে সিলেট যুবদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।এরপর পেরিয়ে যায় ১৯ বছর। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় কোন্দলে নতুন করে সিলেট যুবদলের কমিটি করা হয়নি। এরপর চলে আসে ১/১১ সরকার। তখন রাজনীতিতে চলে আসে অনেকটা স্থবিরতা। ২০০৮ সালের শেষের দিকে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ সরকার। সরকার বিরোধী আন্দোলনের গতি বাড়াতে সারা দেশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নতুন কমিটি করা হলেও সিলেটে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে যুবদলের কমিটি করতে পারেনি হাই কমান্ড। আর এতে পেরিয়ে যায় দীর্ঘ ১৯টি বছর।

আরো পড়ুন :   সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অন্দরকাহিনী’

গত তিন মাস থেকে সিলেট যুবদলের কমিটি আসছে এমন গুঞ্জন ছিল সিলেটের বিএনপি ঘরনার রাজনীতিতে। এতে মূল পদে আসতে সরব হয়ে উঠেন অনেক নেতারা। কে আসছেন সিলেট যুবদলের দায়িত্বে, এমন প্রশ্ন ছিল নেতাকর্মীদের মাঝে। শুক্রবার সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাপলু পেলেন সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়কের পদ। আর এতেই সমাপ্তি ঘটলো সিলেট যুবদলের ১৯ বছরের পুরনো কমিটি।

জকিগঞ্জের কসকনকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুর রব রবই মিয়ার তৃতীয় পুত্র হলেন পাপলু। ছাত্রজীবনের শুরুতে ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদকের পদ পেয়ে আর পিছনের দিকে থাকাতে হয়নি তাঁর। সিলেট সরকারী কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতি করে নির্বাচিত হন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক। এরপর একে একে করে এগুতে থাকেন রাজনীতির ময়দানে। বাগিয়ে নেন বিভিন্ন সময় বড় বড় পদ। ১৯৯৭ সালে সিলেট জেলা ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ন সম্পাদক, পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পড়ে তাঁর হাতে। ২০০২ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন সময়ে তিনি লন্ডনে অবস্থান করলেও সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি পদে তাকে রাখা হয় । মূলত তার পরিবার লন্ডনে বসবাস করেন বিধায় মাঝে মধ্যে তিনি পরিবারের সাথে সামিল হতে লন্ডনে যান বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন :   এবার ছাতকে মাদ্রসা ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, শিক্ষক গ্রেপ্তার

২০১০ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিলেট বিভাগীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়ে পাপলু বেশ আলোচনায় আসেন সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সম্মেলন সফল ভাবে সম্পন্ন করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন তিনি। আর পূর্ব সিলেটের মাঝে এমরান আহমদ চৌধুরীর পর তিনি হয়েছিলেন ছাত্রদলের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। এরপরে ২০১৫ সালে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি হয়েছিলেন সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী। ছাত্রদলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দুই কমিটিতে জকিগঞ্জের পাপলু ও মাহবুব স্থান পেয়েছিলেন।

সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পাপলু সিলেট যুবদলের কমিটি নিয়ে আসতে গত তিন বছর থেকে ধর্না দিচ্ছিলেন বলে দলীয় একটি সুত্র জানিয়েছে। আর তিনি ছাড়াও দলের মুল পদে আসতে ডজন খানেক নেতা ছিলেন পাইপ লাইনে। সকলকে টপকিয়ে শুক্রবার সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়কের দায়িত্ব পান সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। এতেই সিলেট যুবদলে মান্নান-মামুনের ১৯ বছরের কমিটির সমাপ্তি ঘটলো।

আরো পড়ুন :   রোজা না রাখা বা ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি আছে যেসব কারণে