নায়ক উজ্জ্বলঃ এক নক্ষত্রের নাম

লিয়াকত হোসেন খোকন

নায়ক থেকে প্রযোজক ও পরিচালক হয়েছিলেন উজ্জ্বল। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা টেলিভিশনে নিয়মিত নাটক করতেন। টেলিভিশনে সুজাতার বিপরীতে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছিলেন।

টেলিভিশনে নাটক দেখে চিত্র প্রযোজকরা উজ্জ্বলের সংগে যোগাযোগ করেন। এভাবে দেশ স্বাধীনের আগেই ১৯৬৯ সালে উজ্জ্বল ঢাকার চিত্র জগতে যোগ দেন – নায়ক হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে এম এ পাস করার পরপরই তিনি সুভাষ দত্তের- “বিনিময় ” ছবিতে নায়ক হিসেব অভিনয় করলেন। বিনিময় ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭০ সালের ৩ রা জুলাই। সেই থেকে আজ অবধি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি সর্বশ্রেণীর দর্শকের প্রিয় অভিনেতা হয়ে
আছেন।

উজ্জ্বলের আসল নাম: আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ।

জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ২৮ শে এপ্রিল।

আরো পড়ুন :   শাকিবের 'পাসওয়ার্ডের' গানের শ্যুটিং হবে তুরস্কে

জন্মস্থান : পাবনার শাহজাদপুরের জন্তিহার গ্রামে। এই শাহজাদপুর উপজেলা এখন সিরাজগঞ্জে জেলার অন্তর্ভুক্ত। কবরী থেকে শুরু করে অঞ্জু ঘোষ পর্যন্ত যে সকল নায়িকা ছিলেন তাদের সবার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

উজ্জ্বলের প্রথম নায়িকা হলেন ছিলেন কবরী। ” বিনিময় ” ছবিতে – উজ্জ্বল – কবরী ছিল রোমান্টিক জুটি। এই ছবিতে কাজ করার জন্য উজ্জ্বলকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে যেতে হয়েছিল। সেখানে গিয়ে কবরীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। ছবিতে কবরী ছিলেন বোবা। উজ্জ্বল ভাবতো,মেয়েটি বুঝি লজ্জায় কথা বলছেনা।

রূপালী পর্দায় উজ্জ্বল ও কবরীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। বিয়ের পরে উজ্জ্বল জানতে পারে,কবরী বোবা। তারপর শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এ রকম দ্বন্দ্বময় ও জটিল চরিত্রে অভিনয় করে উজ্জ্বল দর্শকের মনে ভীষণভাবে দাগ কাটেন। পরবর্তীতে উজ্জ্বল অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো- বলাকা মন, নিজেরে হারায়ে খুঁজি, মেঘের পরে মেঘ, লালন ফকির, সমাধান, ইয়ে করে বিয়ে, স্বীকৃতি, কাচের স্বর্গ, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, শনিবারের চিঠি, অপবাদ, সমাধি, পিঞ্জর, দম মারো দম, অগ্নিশিখা, অচেনা অতিথি, বন্ধু, দাবী, মহেশ খালীর বাঁকে, ফকির মজনু শাহ, অনুরাগ, বেদ্বীন, দোস্তী, আমির ফকির, উসিলা, নসিব, কারণ, নিয়ত, বিশাল, চোর ডাকাত পুলিশ, চিটার নাম্বার ওয়ান, সবার উপরে তুমি – প্রভৃতি। শাবানার বিপরীতে জুটি বেঁধে উজ্জ্বল – শাবানা জুটি সফল হয়েছিল – সমাধান, স্বীকৃতি, দুটি মন দুটি আশা, অনুভব, অনুরাগ, নালিশ, নসিব, কুদরত, ফকির মজনু শাহ –
প্রভৃতি ছবিতে।

আরো পড়ুন :   হিল্লোলকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে নওশিন বিয়েই করে ফেলে : তিন্নি

উজ্জ্বল ও ববিতা প্রথম একত্রে অভিনয় করলেন – ” অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী ” ছবিতে। সুভাষ দত্ত পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল – ১৯৭২ সালের – ৮ ই নভেম্বর। পরে উজ্জ্বল ও ববিতা একত্রে অভিনয় করেন – শনিবারের চিঠি, অপরাধ, অপবাদ সহ আরও কয়েকটি ছবিতে। সুচরিতার সঙ্গে – সমাধি, কুদরত ; রোজিনার সঙ্গে – নসিব, ঘর সংসার, চোর ডাকাত পুলিশ, বিশাল ; অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে – রাজ সিংহাসন ; সুজাতার সঙ্গে – বাংলার মুখ, লালন ফকির ; নাসিমা খানের সংগে – মেঘের পরে মেঘ ; শবনমের সঙ্গে – কারণ ইত্যাদি ছবিগুলো ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। দলে দলে জনতা সেদিন এই ছবিগুলো দেখেছিল।

তবে – উজ্জ্বল ও ববিতার রোমাঞ্চের কথা – সেই
সত্তুরের দশকের শেষার্ধে বেশ সরব ছিল ঢাকার চিত্রপুরীতে………… ।
বলুন, সেই কথা ভুলি কেমনে এই ৬৭ বয়সে?

আরো পড়ুন :   দুঃখ সয়ে যাওয়া 'দুখাই' : রহমান মতি

ঢাকা,
বাংলাদেশ।


One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.