ট্রেন্ট ব্রিজেও টাইগারদের সমর্থন দিতে বাংলাদেশিদের ঢল

বৃষ্টি ভুগিয়েছে যথেষ্ট। শুধু ম্যাচ পরিত্যক্ত, সম্ভাব্য জয় হাতছাড়াই নয়। ইংল্যান্ডে এসে বৃষ্টির বাধায় খোলা আকাশের নিচে অনুশীলনও হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। এর বাইরে বৃষ্টির কারণে চলা ফেরায়ও হয়েছে সমস্যা। ইচ্ছে মত এখানে ওখানে যাওয়া, এক সাথে দল বেঁধে বা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অন্য সময় যেভাবে টাইগাররা ঘোরাঘুরি করেন, বাংলাদেশি আর ভারতীয় রেস্টুরেন্টে খেতে যান-তা হয়েছে কম।

মোদ্দা কথা, স্বাভাবিক ছন্দেই বৃষ্টি ছিল বাধা হয়ে। তাই বলে সমর্থক ও ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় কমতি নেই একটুও। বৃষ্টি, ঠান্ডা বাতাস আর ৯-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও প্রিয় জাতীয় দলের খেলা দেখতে যুক্তরাজ্যের এ প্রান্ত ও প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো বাংলাদেশি।

তারা এমনি এমনি আসেননি। বেশির ভাগের পরনে লাল সবুজ জার্সি। কারো হাতে প্রিয় জাতীয় পতাকা। আবার কেউবা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ডোরা কাটা পোশাকে মাঠে এসেছেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ, সৌম্য, মোস্তাফিজ-লিটনদের উৎসাহ জোগাতে। অনুপ্রাণিত করতে।

আরো পড়ুন :   ক্রিকেট বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি

সেই ২ জুন বাংলাদেশ আর দক্ষিণ আফ্রিকা খেলার দিন ওভালে অন্তত সাত আট হাজার বাংলাদেশির মিলন মেলা বসেছিল। তারপর কার্ডিফ, ব্রিস্টল, টনটন আর আজ (বৃহস্পতিবার) নটিংহ্যামেও বাংলাদেশি ভক্ত ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতি। সেই স্থানীয় সময় সকাল আটটটার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বাংলাদেশিরা আসতে শুরু করেছেন মাঠে।

নটিংহ্যামের প্রবাসী বাংলাদেশিরাই শুধু নন। আজ অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচ দেখতে লন্ডন, ব্রিস্টল আর টনটন থেকেও অন্তত হাজার খানেক বাংলাদেশি এসেছেন খেলা দেখতে। যাদের কেউ কেউ আজ ভোরে যাত্রা করে সরাসরি মাঠে এসে ঢুকেছেন। আবার কেউবা বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয় পরিজনের বাসায় এসে উঠেছেন কাল বিকেল বা সন্ধ্যায়। আজ দল বেঁধে সবাই এসে পড়েছেন মাঠে।

আরো পড়ুন :   ছোটমণি নিবাসে যাচ্ছে হাসপাতালের বাথরুমে পাওয়া সেই শিশু

সেই তালিকায় লন্ডনের তরুণ ফায়েজ, ব্রিস্টলের কামরুল ইসলাম, লিঙ্কন, ফারুক, টনটনের মোর্শেদ, মিরাজসহ আরও অনেকে আছেন যারা প্রায় সব ভেন্যুতেই টাইগারদের সাথে ছিলেন। প্রিয় জাতীয় দলের জন্য তাদের কি টান, ভালবাসা-না দেখলে আসলে বোঝা কঠিন।

সবার মাঝে কি যে উচ্ছ্বাস, আবেগ! তাদের একটাই কথা, ‘আমাদের দেশ মাতৃকার সম্মান ও গৌরব বাড়াচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এখন সবাই বলে, আরে, বাংলাদেশ, দারুণ দল। সেমিফাইনালের অন্যতম দাবিদার। তোমাদের দল তো দারুণ খেলে। আর সাকিবতো ‘ব্রিলিয়ান্ট।’ বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার এমনি এমনি হয়নি। এবার মাঠে সবার সাথে ভাল খেলে মাঠ মাতিয়ে সাকিব দেখিয়ে দিচ্ছে আসলেই সে অনেক বড় পারফরমার। বিশ্ব সেরা তারকাদের অন্যতম।’

আরো পড়ুন :   ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি নি:সঙ্গতায় ভোগেন

দেশের বাইরে বৃটিশ মিডিয়া আর সাবেক বিশ্ব তারকাদের মুখেও বাংলাদেশের প্রশংসা। সাকিব বন্দনায় মেতে বিদগ্ধ ক্রিকেট বোদ্ধারা। খুব স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটারদের উজ্জ্বল পারফরমেন্সে বাংলাদেশের সুনাম-সুখ্যাতি বেড়েছে আরও। ইমেজটাই হয়েছে অন্যরকম।

বাংলাদেশও থেকেও জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে ইংল্যান্ডে এসেছেন কয়েকশ ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ সমর্থক। এর বাইরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্তা নাজমুল হাসান পাপন থেকে শুরু করে অন্যতম শীর্ষ পরিচালক মাহবুব আনাম, জালাল ইউনুস, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, লোকমান হোসেন, হানিফ ভূঁইয়া, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, আকরাম খান, নাইমুর রহমান দুর্জয় ও কাজী এনামসহ দেশের অনেক ক্রিকেট সংগঠক, বোর্ড কর্তা, সিডিডিএম এবং বিভিন্ন ক্লাবের বেশ কজন অফিসিয়ালসও এখন বিভিন্ন ভেন্যুতে প্রিয় জাতীয় দলের সাথে ঘুরছেন। মাশরাফি-সাকিবদের সঙ্গ দিচ্ছেন।