জেনে নিন আপনার পরিচিত ১০টি ফেসবুক মীম (Meme) এর ইতিহাস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে মীম (Meme). সহজ ভাষায় বলতে গেলে মীম হচ্ছে অনলাইনে ব্যবহৃত এমন সব বার্তামূলক ছবি বা তথ্য যার মাধ্যমে একজন হাস্যরসাত্মক বা রুপকার্থে নিজের মনোভাব বা ধারনা আরেকজনের কাছে প্রকাশ করতে পারে। মীম অনেক সময় নিছক মজার জন্য বা কাউকে অপমানের জন্য ব্যবহৃত হয়। আবার অনেক সময় মীম-ই হয় সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা ও প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারীরা প্রায়শই মীম পছন্দ করেন এবং অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করেন। তবে সকলেই সেই মীমের উৎপত্তি বা ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আজ আমরা আপনাদের জানাবো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আমাদের পরিচিত ও অতি জনপ্রিয় ১০টি মীমের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে। তবে শুরু করা যাক।

১. ইয়াও মিং-এর চেহারা (Yao Ming Face Meme)
এই মীমটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যবহৃত সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় মীমগুলোর একটি। এটাকে অনেক সময় Fuck That Guy বা Dumb Bitch বা Bitch Please মীমও বলা হয়। এই মীমে ব্যবহৃত চেহারাটি হচ্ছে চীনের সাবেক জনপ্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় ইয়াও মিং এর। তার এই ছবিটি নেয়া হয়েছিল ২০০৯ সালের মে মাসে যখন সে খেলা শেষে তার সতীর্থ রন আর্টেস্টের সাথে সাংবাদিক সম্মেলনে হেসে হেসে কথা বলছিলেন। ২০১০ সালের ১১ জুলাই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রেডিট যখন তাদের বিভিন্ন অব্যবহৃত চিত্রাংকনগুলো পোস্ট করে তখন সেগুলোর মধ্যে ইয়াও মিং এর এই আঁকা ছবিটিও ছিল। যা ঐ সংবাদ সম্মেলনে তোলা ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই ছবিটি নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। ছবিটির সাথে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্যাপশন ব্যবহার করে পোস্ট করা হলে খুব দ্রুত এটি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মূলত রাগান্বিত মনোভাব প্রকাশ করার জন্য এই মীমটি তৈরি করা হলেও বর্তমানে এটি অগ্রাহ্যযোগ্য বক্তব্য ও নিখাদ হাসির বার্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২. ১৪ বছরের নিব্বি (Crying Cat Meme)
আমাদের কাছে এই মীমটা “১৪ বছরের নিব্বি (বালিকা)” নামে পরিচিত হলেও এর মূল নাম The Crying Cat Meme. মূলত এটা হচ্ছে একগুচ্ছ ফটোশপ করা বিড়ালের ছবিগুলোর মধ্যে একটি যেখানে দেখা যায় একটি দুঃখিনী বিড়ালের চোখ পানিতে টলমল করছে। কে এই মীমটি তৈরি করেছেন তার সঠিক তথ্য পরিচয় না পাওয়া গেলেও এটা জানা যায় যে ২০১৪ সালের ১১ জুন এই মীমটি সর্বপ্রথম ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। তারপরই এটি সারাবিশ্বে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। সচরাচর এই মীমটি সদ্য প্রেমে পড়া ইমোশনালি বোকা কোন মেয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন অল্প বয়সী কোম প্রেমিক তার ১৪ বছরের অপরিপক্ক প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য এমন কিছু বলছে যাতে সেই ১৪ বছরের বালিকা (মীমের ভাষায় নিব্বি) ইমোশনাল হয়ে কেঁদে ফেলছে।

আরো পড়ুন :   ১৬ বছর পর পর্দায় ফিরছে তেরে নাম

৩. বিড়ালের উপর চেঁচানো মহিলা (Woman Yelling at a Cat Meme)
এই মীমে দেখা যায় দুটি জোড়া লাগানো ছবির একটিতে এক মহিলা আঙ্গুল উঁচিয়ে চেঁচামেচি করছেন এবং অপরটিতে দেখা যায় একটি বিভ্রান্ত বিড়াল ডিনার প্লেট সামনে নিয়ে বসে আছে। জুন ২০১৯ হতে এই মীমটি ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রথম ছবিটি নেওয়া হয়েছে ২০১১ সালের ৫ই ডিসেম্বর প্রচারিত আমেরিকার জনপ্রিয় টিভি সিরিজ The Real Housewives of Beverly Hills এর দ্বিতীয় মৌসুমের ১৪তম পর্ব “Malibu Beach Party From Hell” থেকে নেওয়া। যেখানে দেখা যায় একটি ঝগড়ার দৃশ্যে অভিনেত্রী টেইলর আর্মস্ট্রং কান্নাকাটি করে চেঁচামেচি করছেন এবং আরেক অভিনেত্রী কাইলে রিচার্ডস তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। পরের দিন ডেইলি মেইল উপরোক্ত ছবিটি পোস্ট করে পর্বের ঘটনার বর্ণনা দেন। ছবিটি নেটিজেনদের হাস্যরসের খোড়াকে পরিণত হয়।
এদিকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই deadbefordeath নামের একজন Tumblr ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী একটি সাদা বিড়ালের ছবি আপলোড করেন যেখানে দেখা যায় বিড়ালটি প্লেটে রাখা সবজির পেছনে বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেটার টাইটেল ছিল “he no like vegetals” অল্প সময়ের মধ্যে ছবিটি ৫০,৩০০ লাইক পায় এবং বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তীতে ঐ বিড়ালটির নাম দেওয়া হয় স্মাজ। যার নামে একটি ইন্সটাগ্রাম একাউন্টও খোলা হয়।
২০১৯ সালের মে মাসের আগ পর্যন্ত ছবি দুটো আলাদাভাবে টুইটারে ব্যবহার করা হলেও পহেলা মেতে @MISSINGEGIRL নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী ছবি দুটোকে পাশাপাশি রেখে পোস্ট করেন। যার ক্যাপশন ছিল “একসাথে এই ছবিগুলো আমাকে পাগল করে ফেলছে।” ব্যস ছবিটি টুইটারে হইচই ফেলে দেয় এবং জন্ম হয় একটি অসাধারণ মীমের।

৪. বানর পুতুল (Monkey Puppet)
এই মীমে দেখা যাচ্ছে একটি বানর পুতুল উভয় সংকটে পরে নার্ভাস বা অসুখী হয়ে তার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এই বানরটি হচ্ছে ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রচারিত জাপানের জনপ্রিয় শিশুতোষ টিভি শো Ōkiku naru Ko or (বাড়ন্ত শিশুরা) এর একটি চরিত্র।
এই মীমটি প্রথম জনপ্রিয়তা পায় একটি স্পেনীয় ইন্টারনেটের সাইটের মাধ্যমে। পরবর্তীতে এটাকে রিয়েকশন এনিমেশন (GIF) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর @ultkjongin নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী একটি খবরের আর্টিকেলে রিয়েকশন স্বরুপ এই মজার ছবিটি আপলোড করলে খুব দ্রুত এটা ছড়িয়ে পড়ে। মূলত মানুষের দ্বিমুখী নীতি, ভাবলেশহীন প্রতিক্রিয়া, অসহায়ত্ব প্রভৃতি প্রকাশ করার জন্য এই মীমটি ব্যবহৃত হয়।

৫. বিভ্রান্ত/বিশ্বাসঘাতক প্রেমিক (The Distracted Boyfriend Meme)
প্রায় সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে এটি একটি সুপরিচিত মীম। যেখানে দেখা যায় এক প্রেমিক তার প্রেমিকার সামনেই পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক তরুণীর পেছনে কামাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এবং সে প্রেমিকা রাগ আর বিস্ময় নিয়ে তার প্রেমিকের দিকে তাকিয়ে আছে। এই ফটোটি হচ্ছে ফটোগ্রাফার এন্টোনিও গিলামের তোলা একগুচ্ছ ছবির একটি। যা তিনি বিক্রির জন্য স্টক ফটো হিসেবে পোস্ট করেন। এরপর কিছু জায়গায় ছবিটি ব্যবহৃত হলেও ভাইরাল হয়েছিল না। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে @dekhbai নামের এক ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারী “সেই বন্ধুকে ছবিটি ট্যাগ করুন যে প্রতিমাসে প্রেমে পড়ে” ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করলে ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ছবিটকে ব্যবহার করে নিত্যনতুন ক্যাপশন, মুখ ও লেবেল জুড়ে দিয়ে অনেকেই পোস্ট করেন। মূলত মানুষের পুরাতন ছেড়ে নতুনের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতাকে এই মীম দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

আরো পড়ুন :   ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন তামিল নায়ক রাম চরণ!

৬. পর্ষদকক্ষের সভায় পরামর্শ (The Boardroom Meeting Suggestions Meme)
এই মীমে দেখা যায় কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা তার তিনজন কর্মীর কাছে কোন ব্যাপারে পরামর্শ চাইছেন। প্রথম দুজন গ্রহণযোগ্য পরামর্শ দিলেও তৃতীয় জন সবচেয়ে বিরোধপূর্ণ কিন্তু সৎ পরামর্শ দেয়। অবশেষে সেই নির্বাহী কর্মকর্তা রাগত দৃষ্টিতে সেই তৃতীয় কর্মীর দিকে তাকায় এবং তাকে অফিসের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এই মীমটিতে বোঝানো হয়েছে “উচিৎ কথার ভাত নাই”। এই কমিকটি সর্বপ্রথম ২০১২ সালে হেজিবিটস নামের একটি ওয়েবসাইটে Outlook Oust নামে পোস্ট করা হয়। যেখানে দেখা যায় একজন নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের Wii U কে সবচেয়ে দামী বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে তিন কর্মীর কাছে পরামর্শ চাইছে। ২০১৩ সালের দিকে এটি বিভিন্ন আঙ্গিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হতে থাকে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

৭. ড্রেইকের পোস্ট (Drakeposting/Drake Hotline Bling Meme)
এই মীমটিতে দেখা যায় উপরের ছবিটিতে এক ব্যক্তি বেজার মুখে হাত দিয়ে ইশারা করে কোন কিছুকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করছে আবার ঐ একই ব্যক্তি হাসিমুখে আঙ্গুলের ইশারায় কোন কিছুর দিকে সম্মতিসূচক নির্দেশ করছেন। আসলে মীমটির ঐ জনপ্রিয় লোকটি হচ্ছেন কানাডার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অব্রে ড্রেইক গ্রাহাম। মীমে ব্যবহৃত ছবি দুটো তার জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও Hotline Bling এ করা নাচের স্ক্রিনশট নেওয়া। ২০১৫ সালে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়বস্তুর তুলনামূলক উপস্থাপনের জন্য এই মীমটি ব্যবহৃত হতে থাকে। বর্তমানে এটি সুপরিচিত একটি মীম। এটার চেয়ে ওটা ভাল বোঝাতেই মূলত এই মীমটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

৮. হতাশ পাকিস্তানি ক্রিকেট ভক্ত (Disappointed Cricket Fan/Angry Pakistani Fan)
এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মজাদার ও জনপ্রিয় একটি মীম। এতে দেখা যায় এক ব্যক্তি দুই হাত কোমড়ে রেখে হতাশ ও রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। ছবির ঐ লোকটি হচ্ছেন ইংল্যান্ডে বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিক মুহাম্মাদ সারিম আখতার। ২০১৯ সালের ১২ জুন বিশ্বকাপে পাকিস্তান মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়ার। ম্যাচটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটার আসিফ আলী অস্ট্রেলিয়ান মারকুটে ব্যাটসম্যান অ্যারোন ফিঞ্চের মূল্যবান ক্যাচ মিস করতেই ক্যামেরা চলে যায় হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা পাকিস্তানি দর্শক সারিম আখতারের দিকে। সারা পাকিস্তানের ক্ষোভ যেন সারিমের চেহারায় প্রকাশ পায়। ঐ ম্যাচে পাকিস্তান হারলেও নেট দুনিয়া সারিম আখতারের সেই ছবির মাঝে খুঁজে পান যুগান্তকারী মীম। ছবিটি এতটাই ভাইরাল হয় যে স্বয়ং বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অফিসিয়াল পেইজ থেকেও তার এই মজার ছবিটি শেয়ার করা হয়। মীমটি মূলত হতাশা বা রাগ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটাকে নেটিজেনরা এতই ভালোবেসে ফেলেন যে কিছু অতিউৎসাহী জনতার অনুরোধে সারিম তার ঐ ছবি সম্বলিত টি-শার্ট নিজ হাতে বাজারে ছাড়েন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সারা বিশ্বের একটি পরিচিত মুখে পরিণত হন।

আরো পড়ুন :   সংগ্রাম; স্বয়ং বঙ্গবন্ধু অভিনয় করেছিলেন যে সিনেমায়

৯. শুধুমাত্র একজনকে আগুন থেকে বাঁচাতে পারবেন (You Can Only Save One From Fire)
এটা একটি জনপ্রিয় ওয়েবকমিক মীম। যেখানে দেখা যায় একটি কক্ষে আগুন লেগেছে এবং এক ব্যক্তি সেখানে ঢুকে দেখতে পায় তার কাছের দুটো ব্যক্তি (বা চিন্তাধারাও হতে পারে) বাঁচার জন্য সাহায্য চাইছে। ব্যক্তিটি যেকোন একজন বা একটি পছন্দকে সেখান উদ্ধার করে বাঁচাতে পারবে। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ওয়েবকমিক রক্সি সর্বপ্রথম এই মীমটি প্রকাশ করে। যেখানে দেখা যায় এক ব্যক্তি আগুন লাগা একটি গৃহে প্রবেশ করে দেখে দুজন ব্যক্তি তাদের বাঁচানোর জন্য সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছে। তাদের একজনের খালি চেহারায় লেখা “ঘুম”, আরেকজনেরটায় লেখা “ভিডিও গেমস”। শেষ পর্যন্ত লোকটি ঘুম বাদ দিয়ে “ভিডিও গেমস” লেখা লোকটিকে বাঁচিয়ে কোলে করে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সেদিনই এই মীমটি ফেসবুকে প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর থেকে এর বিভিন্ন সংস্করণ প্রকাশিত হতে থাকে। যেমন একটিতে দেখা যায় এক লোক সেই আগুন লাগা ঘরে ঢুকে দেখেন তার বউ আর শালী সেখানে আটকে পড়েছেন। লোকটি তার বউকে ফেলে রেখে শালীকেই উদ্ধার করেন।

১০. হতাশ কালো যুবক (Disappointed Black Guy)
এটি একটি চার স্তরবিশিষ্ট “আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতা” জাতীয় মীম। যেখানে দেখা যায় কোন একটি বিষয় বা বস্তু পুরোপুরি না দেখেই বা ভাল মনে করে একজন কালো যুবক খুশিতে হাসছে। কিন্তু পরের অংশেই সেই বিষয় বা বস্তুর আসল বা পূর্ণ রুপ দেখে যুবকটি হতাশায় মুখ বেজার করে ফেলছে। এই মীমটির আবিষ্কারক We Heart It নামের একটি ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারী সিওভান। ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা লাঁজারো রামোসের হাসিমুখ ও বেজার মুখের দুটো ছবি ব্যবহার করে এই মীমটি তৈরি করেন। পরবর্তীতে অক্টোবর মাসের দিকে এই মীমটি ফেসবুকে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।